জিয়ারুল ইসলাম: কুষ্টিয়ার খোকসায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি ও জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে রাতের আঁধারে নগ্ন তাণ্ডব চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত।
বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার মোড়াগাছা-হাশিমপুর এলাকায় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপির উদ্বোধনকৃত খাল পুনঃখনন প্রকল্পে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীরা প্রকল্পে নিয়োজিত দুটি বড় স্কেভেটর (ভেকু) মেশিনে অগ্নিসংযোগ করে এবং কর্মরত চালকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে তাদের ব্যক্তিগত মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী চালক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে প্রতিদিনের মতো দুইজন দুই ভেকুতে কাজ করছিল বাকিরা কাজ শেষে বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালায়। তারা চালকদের অবরুদ্ধ করে মারধর শুরু করে এবং দুটি স্কেভেটর মেশিনে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় তারা স্কেভেটরের ব্যাটারী, চালকদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
হামলার শিকার চালক সবুজ হোসেন (পিতা: শাহজাহান প্রমানিক, আমবাড়িয়া), সিয়াম মন্ডল (পিতা: রকিবুল ইসলাম, মিরপুর) এবং শিবলু বিশ্বাস (পিতা: মুক্তার আলী, লাহিনী পাড়া) জানান, সন্ত্রাসীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকায় তারা কোনো প্রতিরোধ করতে পারেননি। তাদের দাবি, কোনো পূর্ব শত্রুতা নয়, বরং এটা হতে পারে উন্নয়ন কাজ বন্ধ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে খোকসায় এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি। সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে এমন ন্যক্কারজনক হামলায় স্তম্ভিত স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে খোকসা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ দোস্তদার হোসেন বলেন, "বিষয়টি অত্যন্ত রোমহর্ষক ও দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকিতে থাকা উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়া মানেই রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রায় বাধা দেওয়া। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মুহাম্মদ রিজিবুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডে ভেকু দুটির ব্যাপক যান্ত্রিক ক্ষতি হয়েছে। এতে কাজের গতি থমকে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক ও চালকদের মধ্যে তীব্র ভীতি সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর পরই খোকসা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।
খোকসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: তাসমিন জাহান গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং সম্পদ বিনষ্টকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ভেকুর মালিক পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি খুব দ্রুতই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে দাপাদাপি আর আগুনের শিখা দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সকালে পোড়া ভেকু দেখে সবার মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে এই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে খোকসার উন্নয়ন ধারাকে সচল রাখা হোক।
কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আধুনিক মানের অনলাইন
সবার আগে সংবাদ পেতে ভিজিট করুন rupantornews.com