
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন গাংধী গ্রামে পৈতৃক বসতভিটার জমি ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে এক যুবককে ঘুমন্ত অবস্থায় গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার আপন বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ভুক্ত করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
ভুক্তভোগী ও ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, গাংধী গ্রামের মৃত মুক্তার আলীর চার ছেলের মধ্যে পৈতৃক সম্পত্তি ও বসতভিটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বড় ভাই মো: জাফর আহমেদ (৩৫) দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ছিলেন। গত দুই মাস আগে তিনি দেশে ফিরে চার ভাইয়ের মধ্যকার পৈতৃক বসতভিটার অর্ধেক জমি এককভাবে দাবি করেন। অন্য তিন ভাই পৈতৃক সম্পত্তি সমান চার ভাগে বণ্টন করার প্রস্তাব দিলে জাফর আহমেদ তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং জোরপূর্বক অর্ধেক জমি দখল করার চেষ্টা চালান। এই নিয়ে ভাইদের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে গত ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে ইবি থানাধীন গাংধী গ্রামে একটি সালিশী বৈঠক বসে। কিন্তু অভিযুক্ত জাফর আহমেদ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত ও অনুরোধ অমান্য করে নিজের দাবিতে অনড় থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২০ মে ২০২৬ ইং তারিখ ভোর আনুমানিক ৫:০০ ঘটিকার সময় ছোট ভাই মো: আসিফ ইকবাল (২৩) নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, জাফর আহমেদ হঠাৎ আসিফের ঘরে প্রবেশ করে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চিপে ধরেন এবং বুকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। আসিফের চিৎকার শুনে তার মা (যিনি ভুক্তভোগী আসিফের আপন মা হলেও অভিযুক্ত জাফরের সৎমা) তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে পাষণ্ড বড় ভাই নিজের সৎমাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং আসিফকে পুনরায় মারধর করেন। এতে আসিফের শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ও নীলা ফোলা জখম হয়।
পরবর্তীতে আসিফ ও তার মায়ের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশী হুমায়ুন আহমেদ (২৮), সবুজ হোসেন (২৭) সহ আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে আসিফকে উদ্ধার করেন এবং হামলাকারীর হাত থেকে রক্ষা করেন। পরে ভুক্তভোগী আসিফ ইকবালকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জাফর আহমেদ প্রতিনিয়ত আসিফ ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন, যার ফলে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
ভবিষ্যত নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ২১ মে ২০২৬ তারিখে মো: আসিফ ইকবাল বাদী হয়ে ইবি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মাসুদ রানা বিষয়টি আমলে নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং: ১০১৭, জিডি ট্র্যাকিং নং: NN58NP) ভুক্ত করেছেন। থানার ডিউটি অফিসার মো: কামরুল ইসলাম আবেদনটি গ্রহণ করেন এবং মামলাটি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসআই (নিরস্ত্র) মো: এখলাছ উদ্দিনকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আধুনিক মানের অনলাইন
সবার আগে সংবাদ পেতে ভিজিট করুন rupantornews.com