রুপান্তর নিউজ রুপান্তর নিউজ
Admin
রাশিয়ার হুমকিতে প্রস্তুত লিথুয়ানিয়া, হামলা হলে ‘লড়াই করবে’; সরানো হবে সাধারণ মানুষ


রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করেছে ন্যাটোর সদস্য দেশ লিথুয়ানিয়া। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিনদাউগাস সিনকেভিচিয়াস স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাশিয়া হামলা চালালে আত্মসমর্পণ করবে না লিথুয়ানিয়া; বরং পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
বিবিসির নিউজ নাইট অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার কারণে লিথুয়ানিয়ার মানুষ নিজেদের ‘ক্রমাগত হুমকির মধ্যে’ মনে করছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সিনকেভিচিয়াস জানান, সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরই মধ্যে একাধিক পরিকল্পনা তৈরি করেছে তার সরকার। এর মধ্যে প্রয়োজন হলে শহর থেকে বয়স্ক মানুষসহ সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। এ সময় যানজট বা বিশৃঙ্খলা এড়ানোর বিষয়টিকেও পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি প্রকাশ্যে আলোচনা করা হচ্ছে না। কারণ লিথুয়ানিয়া এমন কিছু বাস্তব ও সুনির্দিষ্ট হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে, যেগুলো প্রতিদিন না ঘটলেও দেশটির জন্য বাস্তব নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করছে।
রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলের সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে লিথুয়ানিয়ার। একই সঙ্গে দেশটি বেলারুশের পাশেও অবস্থিত। বেলারুশকে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাল্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে লিথুয়ানিয়ায় উদ্বেগ দীর্ঘদিনের।
সাম্প্রতিক সময়ে লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের ঘটনাও সেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে দেশটির আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি ড্রোনকে ন্যাটোর মিশনে থাকা ইতালীয় যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি রাশিয়ায় তৈরি ‘গেরবেরা’ মডেলের ছিল এবং সেটি সম্ভবত ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল; তবে এর প্রকৃত গতিপথ ও উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছিল।
এদিকে গত এক বছরে বেলারুশের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি ঘটনাকে ‘হাইব্রিড হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে লিথুয়ানিয়া। সোমবার রাতে রাজধানী ভিলনিয়াসের প্রধান বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আকাশে বেলুনসদৃশ কিছু বস্তু দেখা যাওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাটিকে তারা বেলারুশের চালানো ‘হাইব্রিড হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করলেও প্রেসিডেন্টের প্রধান উপদেষ্টা দেইভিদাস মাতুলিওনিস বলেন, বস্তুগুলো আদৌ বেলুন ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।
রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকির পাশাপাশি ন্যাটোর প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিও জোরদার করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে জার্মানি লিথুয়ানিয়ায় একটি স্থায়ী যুদ্ধ-প্রস্তুত ব্রিগেড মোতায়েনের ঘোষণা দেয়। প্রায় ৫ হাজার সেনা ও বেসামরিক কর্মী নিয়ে গঠিত এই ব্রিগেড ২০২৭ সালের মধ্যে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা। এর বড় একটি অংশ লিথুয়ানিয়ার রুদনিনকাই এলাকায় অবস্থান করবে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সুয়ালকি গ্যাপের কাছাকাছি।
সিনকেভিচিয়াস যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ভাবনায়ও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, লিথুয়ানিয়া রাশিয়ার সীমান্তের অনেক কাছাকাছি অবস্থান করায় হুমকির বিষয়টি তারা আরও সরাসরি অনুভব করে।
লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া ২০০৪ সালে ন্যাটোর সদস্য হয়। জোটের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে পুরো জোটের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে লিথুয়ানিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া যেকোনো বড় সংকট ন্যাটোর সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমায় সামরিক ড্রোন প্রবেশের ঘটনাও বেড়েছে। লিথুয়ানিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে সেই বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।


