প্রকাশিত: 3:57 PM, October 12, 2026


কুষ্টিয়া সদরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স

দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠু, নির্ভুল ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় অবহিতকরণ সভা ও প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেস কনফারেন্সে কুষ্টিয়া সমাজসেবা অফিসারেরা জানান, কুষ্টিয়া সদরে সর্বমোট ৯১২ জন তথ্যসংগ্রহকারী এবং ৯২ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত থাকবেন। প্রথম পর্যায়ে প্রশিক্ষণ প্রদান শেষ হয়েছে। প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী তথ্যসংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে ইনপুট করবেন। কুষ্টিয়ায় ট্যাবের কিছুটা স্বল্পতা থাকলেও পর্যায়ক্রমে সকল মাঠকর্মীর মাধ্যমে ডেটা এন্ট্রির কাজ সম্পন্ন করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

প্রেস কনফারেন্স এ সরকারি চিঠিতে বলা হয়েছে, জানা যায়, গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে (জুন ২০২৬ পর্যন্ত) দেশের ৮টি বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১,১২,০৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রক্সি মিন্স টেস্ট (PMT) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১,৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা প্রদান করা হয়েছে। এতে বরাদ্দকৃত ৮৬.৬০ কোটি টাকার বিপরীতে মোট ৬৫.৭৩ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যার মধ্যে ৫৭.২০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে বিতরণ করা হয়।

২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে কর্মসূচির মূল বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই কর্মসূচির জন্য মোট ১৪, ৫০০.০০ (চৌদ্দ হাজার পাঁচশত) কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১২,৩০০.০০ (বারো হাজার তিনশত) কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে রাখা হয়েছে। কর্মসূচির সুবিধার্থে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) কর্তৃক হালনাগাদকৃত PMT পদ্ধতিতে দেশের সকল পরিবারকে আর্থ-সামাজিক ক্যাটাগরি অনুযায়ী ৫টি কোয়ান্টাইলে (অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত) বিভক্ত করা হয়েছে। PMT স্কোর অনুযায়ী ৮৬০ নম্বর বা তার কম নম্বর প্রাপ্ত নারী পরিবার প্রধানগণ ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। সকল নারী পরিবার প্রধান ফ্যামিলি কার্ড পেলেও কেবল ১ম, ২য় এবং ৩য় কোয়ান্টাইলভুক্ত (নিম্ন স্কোর প্রাপ্ত) নারী পরিবার প্রধানগণ ভাতা পাবেন। সারা দেশে মোট ৬৬,৮১৫ জন প্রশিক্ষিত তথ্যসংগ্রহকারী এবং ৬,৬৮১ জন সুপারভাইজার মাঠে নিয়োজিত রয়েছেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা এবং নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে—এমন পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের নির্ভুলতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরগুলোর কার্যকর সমন্বয়ের ওপর।

এদিকে, কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সুবিধাভোগী পরিবার শনাক্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

কর্মসূচির আওতায় তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো পরিবার যাতে বাদ না পড়ে এবং প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা যথাযথভাবে উঠে আসে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় আয়োজিত এ অবহিতকরণ ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি, দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বিত কার্যক্রমের গুরুত্ব সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের কার্যকর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

এসময় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হারুন অর রশিদ, শহর সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ আলীসহ উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা ও শহর সমাজসেবা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card