রুপান্তর নিউজ রুপান্তর নিউজ
Admin
ফিফায় বড় সংস্কারের প্রস্তাব ইনফান্তিনোর, খতিয়ে দেখা হবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি!


_সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক অধিকার ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই সংস্থাটির পরিচালন কাঠামোতে সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হয়, তা খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন বাহ্যিক পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ফিফা কাউন্সিলের সদস্য এবং ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেন ইনফান্তিনো। বড় ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে পরামর্শ করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে ইনফান্তিনো জানান, ফিফার বর্তমান পরিচালন কাঠামোর মাধ্যমে বড় কৌশলগত উদ্যোগগুলো কীভাবে নেওয়া হয়, তা স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা যায় কি না—সে বিষয়ে কাউন্সিলের কাছে প্রস্তাব রাখবেন তিনি। একই সঙ্গে সম্ভাব্য উন্নতির জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সুপারিশ দেওয়ার বিষয়টিও পর্যালোচনার আওতায় রাখার কথা বলেছেন।
এই পর্যালোচনায় ফিফার সভাপতি, ব্যুরো, কাউন্সিল ও কংগ্রেসের নিজ নিজ ক্ষমতা ও দায়িত্ব কী হওয়া উচিত, সেটিও খতিয়ে দেখা হতে পারে। পাশাপাশি বড় কোনো উদ্যোগ নেওয়ার আগে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে কীভাবে আরও আগে সম্পৃক্ত করা যায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কীভাবে বাড়ানো সম্ভব, সেসব বিষয়ও আলোচনায় আসবে।
ইনফান্তিনো আরও জানিয়েছেন, ফিফার কনফেডারেশন, সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে একটি কাঠামোবদ্ধ পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হবে ফিফার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা।
সম্প্রতি ফিফার একটি বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই ইনফান্তিনোর নতুন উদ্যোগটি সামনে এলো।
জুলাইয়ে ফিফা Forward Enterprise নামে একটি নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সংখ্যালঘু অংশীদারিত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করেছিল। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করে বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্নয়ন কার্যক্রমে বিনিয়োগের লক্ষ্য ছিল।
তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং কনকাকাফসহ বিভিন্ন পক্ষের বিরোধিতার মুখে পড়ে। পরিকল্পনাটি নিয়ে বয়কটের হুমকিও সামনে আসে। পরে জুলাইয়েই ফিফা ওই উদ্যোগ প্রত্যাহার করে নেয়।
তবে ইনফান্তিনোর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল ফিফার নিয়ন্ত্রিত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সংখ্যালঘু অংশীদারিত্ব বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের সম্ভাবনা যাচাই করা। খেলাধুলাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ফিফার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা এতে ছিল না।
পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগেই প্রকাশ্যে আসায় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল বলেও স্বীকার করেছেন ইনফান্তিনো। তার দাবি, বিষয়টি কেবল একটি প্রস্তাব হিসেবে বিবেচনায় ছিল এবং তা বাস্তবায়নের জন্য ফিফা কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার কথা ছিল।
চিঠিতে ইনফান্তিনো আরও বলেন, কোনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশন কোনো প্রস্তাব বা প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ে যে অবস্থানই নিক না কেন, সেই অবস্থানের ভিত্তিতে ফিফার পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে আচরণ পরিবর্তিত হবে না। ফিফার উন্নয়ন ও সংহতিমূলক কর্মসূচিগুলোও নিয়ম অনুযায়ী চলবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
সাম্প্রতিক বিতর্কের পর ফিফার পরিচালন কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে ইনফান্তিনোর এই উদ্যোগ এখন সদস্য দেশগুলোর আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে প্রস্তাবিত স্বাধীন পর্যালোচনা বাস্তবে হবে কি না এবং হলে এর মাধ্যমে কী ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ আসবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো ফিফার কাউন্সিলের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।
তথ্যসূত্র: Reuters, Associated Press (AP), Sky News, The Guardian.


