রুপান্তর নিউজ রুপান্তর নিউজ
Admin
কুষ্টিয়ায় ডিসির প্রত্যাহার আদেশ বাতিলের দাবিতে উত্তাল রাজপথ: জুলাই যোদ্ধাদের পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচি

জিয়ারুল ইসলাম: কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইকবাল হোসেনের প্রত্যাহার আদেশ বাতিল এবং তাকে এই জেলাতেই বহাল রাখার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়া।
সোমবার (২ মার্চ) সকাল ১০ টা থেকে শহরতলীর মজমপুর গেট ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ‘২৪’র জুলাই আন্দোলনের জুলাই যোদ্ধাদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট মজমপুর গেট এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া একাংশের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশ চলাকালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক মোঃ ইকবাল হোসেন একটি দাপ্তরিক সভায় যোগ দিতে কার্যালয় থেকে বের হতে চাইলে আন্দোলনকারীরা তার গাড়ি ঘেরাও করে। এসময় প্রায় এক ঘণ্টা তিনি গাড়িসহ অবরুদ্ধ থাকেন।
পরবর্তীতে জোহরের নামাজ ও একটি জরুরি বৈঠকের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বিশেষ অনুরোধ জানালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। তবে সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, কুষ্টিয়ার বর্তমান জেলা প্রশাসক জনবান্ধব এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে একাত্ম। তার প্রত্যাহার আদেশ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দ্রুত এই আদেশ বাতিল করে তাকে কুষ্টিয়াতেই বহাল রাখতে হবে।” দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন। উল্লেখ্য, এর আগে রবিবার রাতেও একই দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছিল নেতাকর্মীরা।

এদিকে, জেলা প্রশাসকের বদলি ঠেকাতে এক পক্ষ যখন রাজপথে সরব, তখন অন্য একটি পক্ষ এই আন্দোলনকে ‘মব কালচার’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা বিক্ষোভ ও মিছিল করেছে করেছে। উভয় পক্ষই নিজেদের ‘জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করছে। একই ব্যানারে দুই গ্রুপের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে—জেলায় আসলে মূল জুলাই যোদ্ধা সংগঠন কোনটি? এই পাল্টাপাল্টি মেকানিজমে কুষ্টিয়ার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য যে, গত রোববার (১ মার্চ) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কুষ্টিয়াসহ দেশের আরও চার জেলার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। এই আদেশের পরপরই কুষ্টিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

